
সপ্তর্ষি সিংহ, কলকাতা:- অতি-জটিল অ্যাওর্টিক রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছ। অ্যাওর্টা মূলত মানবদেহের বৃহত্তম ধমনী, যা শরীরের সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করে। অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম, ডিসেকশন এবং জটিল অ্যাওর্টিক আর্চ ও থোরাকো-অ্যাবডোমিনাল রোগের ক্ষেত্রে নির্ভুল রোগনির্ণয়, উন্নত ইমেজিং এবং সমন্বিত মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। দুঃখজনকভাবে, এই রোগগুলির উপসর্গ প্রায়ই হার্ট অ্যাটাকের মতো হওয়ায় বহু ক্ষেত্রে রোগ দেরিতে ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, প্রায় ৩০ শতাংশ অ্যাওর্টিক রোগ প্রথমে হৃদরোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই হঠাৎ বুকে ব্যথা দেখা যায়। তবে হার্ট অ্যাটাকের তুলনায় তীব্র অ্যাওর্টিক সমস্যা অনেক দ্রুত মারাত্মক রূপ নিতে পারে এবং প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে, ফলে সময় এখানে জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য গড়ে দেয়।
এই বিষয়ে নারায়ণা আরএন টেগোর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট – কার্ডিয়াক সার্জারি ও অ্যাওর্টিক সার্জারি প্রোগ্রামের প্রধান ডা. অতনু সাহা বলেন,
“অ্যাওর্টিক রোগ অনেক সময় নীরবে বা ভুলভাবে বোঝা হয়, যতক্ষণ না তা জরুরি অবস্থায় পরিণত হয়। হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে উপসর্গের মিল থাকায় রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হয়। বুকে ব্যথা নিয়ে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে শুরুতেই সিটি স্ক্যান ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি করলে অ্যাওর্টিক ও হৃদরোগের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা সম্ভব হয় এবং সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা করা যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে নিজের উদ্যোগে ওষুধ খাওয়া বা চিকিৎসা নিতে দেরি করা একেবারেই উচিত নয়।”
সিনিয়র কনসালট্যান্ট – কার্ডিয়াক সার্জারি ললিত কাপুর বলেন, “অ্যাওর্টিক সার্জারি কার্ডিয়াক সার্জারির মধ্যেও একটি সুপার-সুপার-স্পেশালিটি ক্ষেত্র, যেখানে অতিরিক্ত দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। শুধু কার্ডিয়াক সার্জন নন, ভাসকুলার সার্জন ও ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজিস্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই রোগীর সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করে। এই সংকটজনক সময়ে রোগীর পক্ষে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘোরা সম্ভব নয়। তাই এমন একটি ডেস্টিনেশন সেন্টার প্রয়োজন যেখানে সব ধরনের সুবিধা এক জায়গায় পাওয়া যায়—যা নারায়ণা আরএন টেগোর হাসপাতালে উপলব্ধ। অ্যাওর্টিক টিমকে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, সঠিক সময়ে হস্তক্ষেপ এবং সর্বোপরি টিমওয়ার্ক সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকতে হয়।”
