< বিদ্যাসাগর উদ্যানে ‘ বসন্ত উৎসব ও বইমেলা’

বিদ্যাসাগর উদ্যানে ‘ বসন্ত উৎসব ও বইমেলা’

বসন্ত উৎসব

বিদ্যাসাগর উদ্যানে চলছে ‘ বসন্ত উৎসব ও বইমেলা ’

 

ওয়েব ডেস্ক:- রং এবং বই মিলেমিশে একাকার। ফাগুন হাওয়ায় আবির-গুঁড়োর সঙ্গে ভাসছে বইয়ের গন্ধ। রচিত হচ্ছে সুন্দর ও সৃষ্টির নিবিড় বন্ধুতা। উপলক্ষ ‘বসন্ত উৎসব ও বইমেলা’। কলকাতা পৌরসভার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে, পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সহযোগিতায় আয়োজিত এই বইমেলা চলছে কলেজ স্ট্রিটের কলেজ স্কোয়ার প্রাঙ্গণ বিদ্যাসাগর উদ্যানে। ৬ মার্চ সন্ধ্যায় উদ্বোধন করেছেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বই-ই আমার কাঞ্চনজঙ্ঘা, বই-ই আমার এভারেস্ট। অনেককেই বলতে শুনি, এখন আর বাঙালি বই পড়ে না। এটা ঠিক তথ্য নয়। যখন ছোট ছিলাম, কোথাও বইয়ের দোকান খুঁজে পেতাম না। কেউই আমাদের ছোটদের পত্রপত্রিকা কিনে দেয়নি। আমার পাঠের খিদে ছিল প্রবল। গোগ্রাসে বই পড়তাম। বঙ্কিম পড়েছি, বনফুল পড়েছি, তারাশঙ্কর পড়েছি, বিভূতিভূষণ পড়েছি। সেই সব পড়তে পড়তেই বড় হয়েছি।’ বেড়েছে বই নিয়ে মানুষের উন্মাদনা।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজ কিন্তু সময়টা বদলেছে। এখন বই নিয়ে মেলা বসছে। ঘরে ঘরে চাল, ডাল, তেল, নুনের সঙ্গে বইয়েরও অনুপ্রবেশ ঘটেছে। পাঠকের সংখ্যা বেড়েছে। এটা আমার নিজের সমীক্ষা। বইমেলার কল্যাণে বেড়েছে বইয়ের জনপ্রিয়তা। ঘুরুন, বই দেখুন, কিনুন। সারস্বত হয়ে উঠুন। বই শুঁকলেও স্বাস্থ্য ভাল হয়।’পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে আমরা কলেজ স্কোয়্যারে বইমেলা শুরু করি। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে। টানা কয়েক বছর চলেছে। তারপর করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যায়।

এই বছর আমরা আবার এখানে বইমেলা আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিই। মূলত স্থানীয় পৌরমাতা সুপর্ণা দত্তের উদ্যোগে।’ নববর্ষের পরিবর্তে বসন্তে বইমেলা কেন? তিনি জানান, ‘পয়লা বৈশাখের আশেপাশে এতটাই গরম পড়ে যে পাঠকরা ঘুরে ঘুরে বই কিনতে পারেন না। তাই বসন্তে বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। এটাই প্রথম বছর। এবার থেকে এখানে প্রতিবছর এইসময়ে বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে।’

পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক সুধাংশুশেখর দে বলেন, ‘কলেজ স্ট্রিটে রয়েছেন বহু প্রকাশক। সবার ঘরে সব বই সাজানো থাকে না। ফলে বই দেখার সুযোগ কম। দোকানে গিয়ে বইয়ের নাম বললে বিক্রেতারা বই বের করে দেন। বইপাড়ায় এসে যাতে বইপ্রেমীরা ঘুরে ঘুরে বই দেখার সুযোগ পান, কেনার সুযোগ পান, সেই জন্যই এই আয়োজন। আগে নববর্ষে বইমেলা আয়োজিত হত। এবার থেকে শুরু হল বসন্তকালে। এই সময়টা ঠান্ডা-গরম মেশানো। তাই ঘুরে ঘুরে বই দেখতে পাঠকদের ভালই লাগবে।’ নতুন প্রজন্মের প্রশংসা ঝরে পড়ল তাঁর কণ্ঠে।

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগেই আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা শেষ হয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে আর একটা বইমেলার আয়োজন করতে পারব ভাবিনি। আমাদের নতুন প্রজন্ম অল্প সময়ের মধ্যেই মেলাটা সাজিয়ে তুলেছে। কলকাতা বইমেলায় বহু নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। আমার ধারণা, পাঠকরা সব নতুন বই দেখার সুযোগ পাননি। এখানে সেই বইগুলো ভালভাবে দেখার এবং কেনার সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় ১০ শতাংশ কমিশন দেওয়া হয়। এখানে দেওয়া হচ্ছে ২০ শতাংশ কমিশন।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ মালা রায় এবং অমর মিত্র, প্রচেত গুপ্ত, জয়ন্ত দে, সৈকত মুখোপাধ্যায়, দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য, হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত, সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, রাজা ভট্টাচার্য, চুমকি চট্টোপাধ্যায়, বিনতা রায়চৌধুরী প্রমুখ সাহিত্যিক।

তাঁরা প্রত্যেকেই বইমেলার সাফল্য কামনা করেন। সবাইকে রাঙিয়ে দেওয়া হয় আবিরের টিপে। রয়েছে ৫০টির বেশি স্টল। নামীদামি প্রকাশন সংস্থাগুলোর পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে কয়েকটি নতুন প্রকাশন সংস্থা। স্টলে স্টলে আলো ছড়াচ্ছে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়া, নাটক, প্রবন্ধ প্রভৃতি বিষয়ের বই। ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সি বইপ্রেমীরা। ঘুরছেন। পছন্দের বই কিনছেন। হাসি ফুটছে প্রকাশকদের মুখে। তাঁদের আশা, বাকি দিনগুলোয় বিক্রি আরও বাড়বে। ‘বসন্ত উৎসব ও বইমেলা’র সমাপ্তি বাঁশি বাজবে ১২ মার্চ। মেলা প্রাঙ্গণ খোলা থাকছে প্রতিদিন দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা। মূল মঞ্চে আয়োজিত হচ্ছে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঘটছে নবীন-প্রবীণের মেলবন্ধন। শেষদিন ছোটদের উপহার দেওয়া হবে বই, রং এবং পিচকিরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *